ইরানের ইজরায়েল আক্রমণ কি হতে পারে পরিণতি

 পৃথিবীতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের অনেক শত্রু রয়েছে।তাদের সঙ্গে ইরানের মূল পার্থক্য হল ইরান শিয়া মুসলমানদের লিডার।

আয়াতোল্লাহ খোমেনিকে পৃথিবীর সকল শিয়া মুসলমান নিজেদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু মনে করে।তিনি ক্যাথলিকদের পোপ ফ্রান্সিসের মত।

ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রে শিয়া মিলিশিয়া (হামাস ব্যতিক্রম) বাহিনী গঠন করেছে।

ইরানের এই মিলিশিয়া বাহিনীকে ট্রেনিং ও লজিস্টিকস সাপ্লাই দেয় IRGC যারা আয়াতোল্লাহ খোমেনির অধীনে কাজ করে।

ইরান তার প্রক্সিদের সাহায্য ইসরায়েল, সুন্নি আরব রাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের নাজেহাল করে রেখেছে।

কিন্তু ইরান কোনভাবেই সরাসরি যুদ্ধ জড়াচ্ছে না।অক্টোবর ৭ এ হামাস কতৃক ইসরায়েলের হামলার মূল নায়ক IRGC।

এই হামলার জন্য হামাসকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়েছে ইরানের IRGC তাদের সিরিয়ার দামেস্ক দূতাবাসে বসে।

হামাস ইসরায়েলের নাগরিকদের ধরে নিয়ে গেছে।ইসরায়েল গাঁজা উপত্যকায় বোম্বিয়ে ৩০ হাজার মানুষ হত্যার পরও হামাস বন্দিদের মুক্ত করে নি।এতে নেতানিয়াহু মারাত্মক আন্তর্জাতিক চাপে পড়েছেন।কিন্তু এই সবকিছুর পেছনে মূল খলনায়ক ইরান।

তাই ইরানকে দৃশ্যপটের সামনে নিয়ে আসার জন্য ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরানি দূতাবাসে হামলা করে।

এতে ইরানের কয়েকজন IRGC কমান্ডার ও একজন শীর্ষ জেনারেল নিহত হয়।ইসরায়েল ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করে ইরানের দূতাবাসে হামলার উদ্দেশ্য ইরানকে সরাসরি হামলার জন্য উস্কানি দেওয়া যেন গাঁজা ইস্যু চাপা পড়ে যায় এবং বিশ্ব জনমত ইসরায়েলের পক্ষে আসে।

অন্যদিকে ইরান তাদের ইমেজ রক্ষার্থে হামলা করতেই হত।ইরান খুবই কৌশলী একটি হামলা করে ইসরায়েলের উপর।ইরানি সেনারা ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন থেকে ড্রোন ও মিসাইল হামলা করে।তারা ১৭০ টি শহীদ-১৩৬ ড্রোন, ৩০ টি ক্রুজ মিসাইল এবং ১১০ টি ব্যালেস্টিক মিসাইল দিয়ে হামলা করে।ইরানের টার্গেট ছিল ইসরায়েলের নাভেতিম বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া।

ইরান ড্রোনগুলোকে ডিকয় হিসেবে পাঠিয়েছিল যেন ইসরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ধোঁকা দেওয়া যায় এবং মিসাইলগুলো লক্ষে হিট করতে পারে।কিন্তু ইউএস সেন্টকম ও ইসরায়েলি জেনারেলরা হামলার ধরন দেখে বুঝতে পারে ইরান ঠিক কি করতে চাচ্ছে।এজন্য ইসরায়েল তার মিত্রদের সহায়তায় ৯৯% প্রজেকটাইল আটকাতে সক্ষম হয়।শুধু ৭ টি ব্যালেস্টিক মিসাইল ইসরায়েলে আঘাত করে এর ২ টি নেভাতিম বিমান ঘাঁটিতে পড়ে।এতে একটি ইসরায়েলি বিমান ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

অতঃপর ইসরায়েল রেমফেইজ সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল দিয়ে ইরানে হামলা করে।

এতে ইরানের ইসফাহান বিমান ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

তাই সর্বোপরি এখন পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু এতে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপে ছিল ইরানের হামলার কারনে সেটি কাটিয়ে উঠেছে।জাতিসংঘ ও জি-৭ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো হয়।অধিকন্তু আমেরিকা ইজরায়েলের জন্য ১৭ বিলিয়ন সামরিক সহায়তার ঘোষণা করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন