আপনি কি খুন ও গুম এর পার্থক্য জানেন?
- গুম হলো, খুনের পরে মৃতদেহ লুকিয়ে ফেলা।
গুম (گم) একটি উর্দু শব্দ। এর অর্থ - হারানো। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থে, গুম জিনিসটা খুনের চেয়েও খারাপ। কেউ খুন হলে, তার পরিবার মৃতদেহ পায়। কবর দিতে পারে ; মাঝে মাঝে তার কবরটা দেখে আসতে পারে। কিন্তু গুম হওয়া মানুষের মৃতদেহ পাওয়া যায় না। তার লাশ কি মাটিতে পুতেছে, নাকি পানিতে ফেলেছে, নাকি শকুনে খেয়েছে, সেটা জানা যায় না। এমনকি, গুম হওয়া লোকটি কবে মরেছে, সেটাও জানা যায় না।
বন্দুক দিয়ে খুন করা যায় ঠিকই ; কিন্তু গুম করা যায় না। শুধুমাত্র ক্ষমতা থাকলেই গুম করা যায় না। গুম করার জন্য যেটা লাগে, সেটা হলো - গোপনীয়তা। আপনারা সবাই জানেনে, এই গোপনীয়তার জন্য একতা খুবই জরুরী।
বিএনপি দলটি দুর্নীতি করতে পারে ; সন্ত্রাস করতে পারে : খুন করতে পারে ; কিন্তু গুম করতে পারে না। কারন, বিএনপি গুম করে, বিষয়টা গোপন রাখতে পারবে না ; লোক জানাজানি হয়ে যাবে। গুমের জন্য যে গোপনীয়তা দরকার, বিএনপি সেই গোপনীয়তা রক্ষা করার মতন একতা ওই দলটিতে নেই।
গুম জিনিসটা একমাত্র আওয়ামী লীগ করে। বিএনপি খুন করলেও, গুম করতে পারে না। বিএনপি দলটির ঘটনা গোপন রাখার ক্ষমতা নেই ; ওদের গুম করার ক্ষমতা নেই।
এবার অসি লুটপাটের বিষয়। বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতি করে সহজে ধনী হবার জন্য। অরো স্পষ্ট বললে দেশের সম্পদ, জনগনের সম্পদ চুরি করার জন্য মানুষ নেতা হয়। দেশের প্রধান দুটি দলের ভেতরে কম-বেশি চুরির স্বভাব আছে। তবে, তাদের কার্যপ্রণালী ভিন্ন। দুই দলের চুরির পদ্ধতি কিছুটা এমন ….
আওয়ামী লীগ: গভীর রাতে, চোর তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকেছে। এরপর খোজে, কোথায় মূল্যবান জিনিস আছে। খুজে স্বর্ণ অলংকারের বাক্স বের করে ; নগদ টাকার বান্ডিল বের করে। এরপর ছোট একটি পোটলাতে স্বর্ণ, টাকা ইত্যদি নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরবাড়ি একটুও এলোমেলো হয় না ; এতকিছু নিয়ে গেছে সেটা টেরও পাওয়া যায় না।
বিএনপি: গভীর রাতে, তালা ভেঙে চোর ঘরে ঢুকেছে। এবার প্রথমেই খোজে, বড় কোন জিনিস আছে। চুরি যখন করবে, তখন বড় জিনিসটা চুরি করবে। বড় জিনিস খুজে পেলো স্টিলের আলমারি, ফ্রীজ, ডাইনিং টেবিল, সোফা সেট ইত্যাদি। এগুলোর কোনটাই একা নড়াতে পারে না। সাথের লোকজন ডাক দেয়। তারা এসে একসাথে টানাটানি, ঠেলাঠেলি করে। মেঝেতে দাগ পড়ে, ফ্রিজের গায়ের রঙ উঠে যায়, সোফার কাপড় ছিড়ে যায়। আর সেই সাথে শব্দ তো আছেই। ঘরের লোকজনের ঘুম ভেঙে যায়। চোরের দল তাড়াহুড়া করে আলমারি থেকে কিছু জামা, প্যান্ট, জুতা, আর ফ্রীজ থেকে কিছু খাবার দাবার, ইত্যদি বড় একটি ব্যাগে ঢুকিয়ে দৌড়ে পালায়। ঘরবড়ি এলোমেলো, দেখে মনে হয় কতকিছু হয়ে গেছে। স্বর্ণের অলংকার, টাকার বান্ডিল, দামী মোবাইল, সবকিছুই অক্ষত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই দলের লুটপাটের যে পদ্ধতি বর্ননা করলাম, সেটা বাস্তবের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
শেয়ারবাজার লুট, রিজার্ভ চুরি, বিদেশে টাকা পাচার, ইত্যাদির সাথে তারেক জিয়া আর মোসাদ্দেক ফালুর দুর্নীতি এবং খালেদা জিয়ার এতীমখানার দুর্নীতি তুলনা করে দেখুন।