চামচামি শব্দের সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত, আমাদের দেশে বাঁ সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রেই চামচামি টা অনেক বেশি দেখা যায় ।
যে দেশ গুলো কম উন্নত বা উন্নয়নশীল সে দেশ গুলোতে এর চর্চা অধিক হারে হয় থাকে।
চামচামি কথাটি শুনতে কিছুটা খারাপ শোনা গেলেও এটা আমাদের জন্যে চিরন্তন সত্য একটা বিষয়।
এই চামচামির কারনে এক শ্রেনীর লোক বেশি সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে, আবার আর এক শ্রেনী কম সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে । আর এখানেই সৃষ্টি হয় এক প্রকার দুর্নিতি।
চামচামি কাকে বলে
প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে এই প্রথা ।
প্রাচীন কালে কর্তাদের যারা তশামথ করে বেরাতো তাদের কে বলা হতো কর্তাভজা ।
কালের বিভর্তনে তা এখন হয়েছে চামচা, বা চামচামি করা।
এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয় যে , অপরের দোশ খুজে খুজে যায়গা মত পুস করা এবং নিজের প্রশংসা করাকেই চামচামি বলা হয়।
চামচামির অনেক গুলো প্রতি শব্দ রয়েছে, তা হলো – তশামদ করা, তেল বাজি করা,চামচামি করা, চাটু কারিতা, সহ আরো অনেক নামে ডাকা হয় ।
চামচামি টা আসলে একরকম প্রতিভা,
কারন এটা সবাই করতে পারে না,
এটা করতে হলে তার লজ্জা শরম থালা চলবে না,
অনেকে অনেক রকম কথাই বল্বে,সবার কোথায় তেমন কর্নপাথ করা চলবে না, রাগ থাকা চলবে না, সবার কথা সহ্য করার মত ক্ষমতা থাকতে হবে।
চামচামি যারা করে থাকে তারা সমাজে বাড়তি কিছু সুবিধা পেয়ে থাকে, কারন তারা সবসময় ক্ষমতা বাম ব্যাক্তিদের চার পাশে ঘুড় ঘুড় করতে থাকে,
তাদের পাউয়ার কে কাজে লাগিয়ে তারা বিভিন্ন রকম কার্জ হাছিল করে থাকে।
তাদের কারনে সমাজের সাধারন মানুষ নানা রকম ভাবে বঞ্ছিত হয়ে থাকেন। চাটু কারিদের কনো মেরুদন্ড থাকে না। তারা সমাজের অভিশাপ।
আসুন আমরা জেনে নেই চামচামি নিয়ে নিছু স্টয়াটাসঃ
প্রচন্ড শীতে তোরা সবাই নেতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গোসল কর- পবিত্র হ!
টেবিলে কাগজপত্র এলোমেলো করে রেখে নিজের ব্যস্ততা প্রকাশ করা
নিজের মূর্খতা ডাকতে দক্ষ সহকর্মীর বিরুদ্ধে কর্মকর্তার কাছে বিষধাগার করা।
নিজেকে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য মনে করা।
সত্য মিথা বলে নিজের বস কে খুশি করা এক রকম চমকদার চাটুকারিতা।বস আমিই ভালো ,আমিই সেরা, আর সবাই অকর্মা।
যদি দেখ হাতের তালুতে রেখা কম তাহলে বুঝে নিয় তার তেল দেয়ার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।
তেল মাথায় সবাই তেল দিতে চায়,সমাজে দক্ষলোক বেকার থাকার পেছোনে একটাই কারন।
চামচামি নিয়ে উক্তি
ক্ষমতাবানদের চামচামি করা এখন এরকম শিল্পে পরিনত হয়ে গেছে, আগে রাজা জমিদার দের চামচার অভাব ছিল না, তারা যেখানেই যেত না কেন ,চামচারা তাদের পিছু ছাড়তো না আঠার মতো লেগে থাকতো।
ওই যুগ থেকে এই যুগ পর্যন্ত তারা এখনো আছে, এবং যুগ যুগ ধরে তারা থাকবে। চামচামি নিয়ে অনেক মনীষি গণ অনেক কথা বলে গেছেন, এখন আমরা সেই বিখ্যাত উক্তি গুলো শুনবোঃ
তোষামোদ এবং প্রশংসার মধ্যে প্রায়ই অবজ্ঞার নদী প্রবাহিত হয়” – মিন্না এন্ট্রিম
একজন বস ক্ষমতাকে ভালোবাসেন আর একজন নেতা তার অধীনস্হ মানুষদের ভালোবাসেন।– রোনাল্ড রিগ্যান
অর্ধেক অনুভূতিহীন, অর্ধেক অসচেতন।–জোহান উলফগাং
রাসুল (সা.) বলেছেন, উম্মতের ব্যাপারে আমার যে বিষয়গুলোতে ভয় হয়, তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাকপটু মুনাফিক। (মুসনাদে আহমদ : ১/২২)
সমাজে যখন চামচামির চালু হয় তখন ,সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তিরা বঞ্ছিত হয় তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে।
চামচামি নিয়ে কবিতা
কর্পোরেট জগতে একে অন্যকে ঘায়েল করতে কর্পোরেট পলিটিক্স চলে।
দক্ষ ও মেধাবী একজন কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও চাটুকারের ঈর্ষার শিকার হওয়ায় বছর শেষে পদোন্নতি পায় না।
আরেক চাটুকার অদক্ষ হয়েও চামচামি করে পদোন্নতি পেয়ে যায়।
আরেকজন সহকর্মীকে ভুল করতে দেন এবং পরে বসের কাছে গিয়ে তার ভুলটি প্রকাশ করে সংশোধনের করার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেরা কর্মীরাই বেশি রাজনীতির সম্মুখীন হন। এরকম প্রায় সব যায়গাতেই চাটুকারদের অবাদ বিচরন। আসুন এখন আমরা জেনে নেই চাটুকারদের নিয়ে কিছু কবিতা।
যাকিনা চাটুকার দের খপ্পরে পরে কবিগন রচনা করেছিলেন।
আছে যত চাটুকার দালাল, সব কিছুই তাদের হালাল।
না আছে ধর্ম, না আছে জাত।
খয়রাত দেখলেই ধরে মোনাজাত। কথার ভেতর কথার পাকাবে দড়ি, তাদের নাকি সৎসঙ্গ আহামরি।
এই যখন সামাজিকীকরণের রূপ। তখন কি করে থাকি চুপ? বিকল এই সঙ্গের চাই মুক্তি,
কার সাথে যে করি এমন এক চুক্তি? একটা সমাজ চাই নির্ভরতার।
যেখানে বাস নেই চাটুকারিতার।। এই দেশ ভরে গেছে চাটুকার চামচায় চান্স পেলে এরা শুধু সব খানে খামচায়
চামচামি করে শেষে বিনিময়ে দাম চায় বাড়ি গাড়ি পেয়ে গেলে দুধ, কলা, আম চায়।
চাটুকারি পেশা তার , ধরা খেয়ে বাছাধন মুখ ডাকে গামছায়।
চামচাদের চামচামি
চামচাদের চামচামিতে পাল্লা দেয়ার মিশন আজ
চামচাগুলার চামচামিতে বিন্দুমাত্র নেই যে লাজ
লাজের মাথা খেয়া তারা হজম কবেই করেছে
চামচাগুলা চামচামিতে পাল্লা দিতে নেমেছে
চামচাদের চামচামিতে দেশের বারো যাচ্ছে বেজে
চামচামিতে পাল্লা দিয়ে দেশকে তারা খাচ্ছে চুষে
নিজের স্বার্থ রক্ষা পেলেই চামচারা হয় বেজায় খুশ
দেশের স্বার্থও নিজের স্বার্থ চামচাদের নেই সে হুশ
চামচাগুলার উদর পুরে নষ্ট নেতার বর্জ্য মলে
চামচামিতে জিতছে যারা বিজয় মালা তাদের গলে
বিজয় মালা গলায় নিয়ে চামচা হাটে বুক ফুলিয়ে
চামচাদের বিজয় দেখে হাসে ইবলিস দাত কেলিয়ে।
সর্বপরি আমরা বুঝতে পারলাম যে আমাদের দেশে চামচাদের অনেক দৌরাত্ত্য,তাই আমাদের তাদের কাছে থেকে দূরে থাকতে হবে।
কারন তাদের এক মাত্র কাজি হল অন্য জনের ক্ষতি সাধন করা,তারা কারো কনো উপকারে আসে না,তারা শুধু থাকে তাদের নিজের উন্নতি নিয়ে।
তা যে করেই হক না কেনো।তাদের কনো বিবেক থাকে না।তারা তাদের চোখে শুধু নিজের ভালো টাই দেখে থাকেন,তারা অন্ন্যের ভালো কনো সময়ই দেখে না।
শেষ কথা
তাই আমরা নিজেদেরকে চামচাদের হাত থেকে রক্ষা করবো।
আর আজকে আমাদের চামচা নিয়ে পোষ্টি কেমন লাগলো তা আবশ্যই কমেন্ট করে যানাবেন।