বয়সের সাথে শরীরের অঙ্গগুলোও যেন দায়িত্ব টের পেয়ে যায়

 বয়সের সাথে জিহ্বাটাও কেমন যেনো বুঝে যায়, খাবারের স্বাদ সাধ্যের মধ্যে রাখতে হয়। একসময় না ডিম ছাড়া চলতোই না। মাছের মধ্যে বড় মাছের বাইরে চিন্তা করা ছিলো অসম্ভব। মাংস ছিলো বাধ্যতামূলক। অথচ আজ কেমন যেনো একটু আলুর ভর্তায়, একটুকরা ডিমে দিব্যি এক প্লেট ভাত খেয়ে উঠে পড়া যায়। এখন ছোটো মাছেই স্বস্তি, ওই-যে সাধ্যের ভেতরে থাকে তো, তাই। মাংস ঘরে আসে না তেমন নয়।

তবে খাওয়া আয়েশ করে মেহমান আসলেই হয়। অন্যথায় এখন আর দরকারই মনে হয় না। কারণ আরো অনেক দিকও তো দেখতে হবে তাই-না? এখন মাইলের পর মাইল হাঁটলেও পা ব্যথা করে না। ওই-যে দশটাকা কিংবা বিশটাকা বেঁচে যায়। একসময় এমনও বয়েস পার হয়েছে যখন দুই কদম হাঁটার কথা শুনলেই শরীর রাগে কেঁপে উঠতো। এখন কিন্তু ভালোই লাগে হাঁটতে। মনে হয় টাকা উপার্জন করে সাহায্য করতে না পারি। টাকা বাঁচিয়ে যতটুকু উপকার করা যায়।

কাপড় কেনা নিয়েও এখন তড়িঘড়ি নেই আর। ঈদ হোক বা জমকালো অনুষ্ঠানাদি মনে হয় কোনোরকম কাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই হয়। আগের মতো মনে হয় না, সবার চেয়ে আলাদা কিছুই লাগবে আমার। এখন দাম বেশির মধ্যে নয় বরং যত কমের মধ্যে হয় ততই স্বস্তি। পুরোনো কাপড়ে এখন লজ্জা করে না। আরো মনে হয় এগুলো পরলেই আরাম লাগে, নতুন কাপড় গায়ে জড়ালে শরীর আরো উশখুশ করে।

আজ তাই অবাক হই, কি করে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও টের পেয়ে গেলো আজ আমি বড় হয়ে গেছি। তারাও জানে আমার এখন দায়িত্বের বয়স। বিলাসিতা না এখন দরকার বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া। আর কতো সুন্দর তারা আমায় সঙ্গ দিচ্ছে। জোর করছে না আগের মতো, এটা ছাড়া খাবো না, এটা পরবো না, একটুও হাঁটবো না এ-কথা ভুলিয়ে দিয়েছে কতো সহজেই। তাই তো এদের ঋণের বোঝাও মাথার উপর কম নেই একদমই।

.

-রুসমিতা বিনতে মেহেদী

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন