খাবার টেবিলে বাবা-মেয়ে বসে আছেন। খাবার আসতে দেরি হচ্ছে দেখে বাবা মেয়েকে বললেন, “মা, আজকে তোমাকে একটি মজার জিনিস শেখাবো।”
মেয়ে বললো, “কী বাবা?”
“আজকে কী রান্না হচ্ছে জানো?”
মেয়ে বললো, “ইলিশ মাছের ডিম ভূনা। আর ডাল।”
বাবা বললেন, “বাজার করার সময় আমি ইলিশ কিনেছি, তখন তো আরো অনেকেই ইলিশ কিনেছে, তাই না?”
মেয়ে মাথা নাড়লো।
“সবাই বাসায় নিয়ে মাছ রান্না করবে, ভাজি করবে, তরকারির সাথে মাছ দিয়ে খাবে। তাই না? সবাই কি একই রকমের স্বাদ পাবে? সবাই কি খেতে পারবে?”
ক্লাস সিক্সে পড়ুয়া মেয়েটি বললো, “না, বাবা। সবার রান্না তো এক হবে না। সবাই তো সমান মজা পাবে না।”
“ঠিক বলেছো। তারওপর অনেকের এলার্জিজনিত সমস্যা। মাছ খেলে চুলকাবে। এজন্য তারাও মাছ খাবে না। এই যেমন তোমার আম্মু। ইলিশ মাছ খেলেই তার শরীর চুলকায়।”
এরইমধ্যে খাবার চলে আসছে। মা রান্নাঘর থেকে বাবা-মেয়ের কথা শুনছিলেন। মেয়ের প্লেটে ভাত আর মাছের ডিম ভূনা দিয়ে বাবা বললেন, “এটা হলো রিজিকের একটি উদাহরণ। তোমাকে সেদিন রিজিক সম্পর্কে পড়িয়েছিলাম না? বস্তুগত এবং অবস্তুগত রিজিক?”
মেয়ে বললো, “হ্যাঁ।”
বাবা তার মেয়েকে বুঝালেন-
মুসলিমদের রিজিকের ধারণা একদম অন্যরকম। পুঁজিবাদ থেকে শুরু করে পৃথিবীর কোনো মতবাদে এমন ধারণা নেই।
রোগ হলে মানুষ ঔষধ কিনে। ঔষধ কেনার সামর্থ্য হলো বস্তুগত রিজিক। কিন্তু, একজন মুসলিম কেবলমাত্র বস্তুগত রিজিকের ওপর নির্ভরশীল না। সে জানে, ঔষধ কিনতে পারলেই রোগ সেরে যাবে না। এজন্য সে আল্লাহর কাছে দু’আ করে, আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ করে দেন। সালাফগণ রোগ হলে দান করতে উৎসাহ দিতেন। অসুখের সাথে তো বাহ্যিকভাবে দেখলে দানের কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে দান করতে হবে কেনো? এটা অবস্তুগত রিজিক।
বস্তুগত এবং অবস্তুগত রিজিকের সমন্বয়ে একজন অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়। ঔষধ রোগমুক্তি করতে পারে না, আবার ঔষধ না খেলেও হয় না।
বাজার থেকে সবাই ৫০০ টাকা দিয়ে মাছ কিনে। ৫০০ টাকা দিয়ে মাছ কেনার সামর্থ্য হওয়া বস্তুগত রিজিক। কিন্তু, এই মাছ রান্না হবার পর অনেক স্বাদ পাওয়া, খেয়ে এমন মনে করা ‘জীবনের সেরা মাছ খেলাম’ এটা অবস্তুগত। এই উপলব্ধি সবার হয় না।
অনেক সুদখোর, ঘুষখোর বস্তুগত রিজিক পায়। কিন্তু, অবস্তুগত রিজিক থেকে তারা বঞ্চিত হয়। সংসারে শান্তি নেই, রোগের কারণে তারা খাবার খেতে পারে না, ডাক্তার ‘নিষেধ করে’ অনেক খাবার খেতে।
বাবা মেয়েকে বুঝালেন, “তুমি যদি বস্তুগত এবং অবস্তুগত রিজিকের পার্থক্য বুঝতে না পারো, তাহলে মনে হবে- যারা সুদ খায়, তারা তো অনেক উপার্জন করে। তাদের মতো হলেই তো হয়।”