যে ব্যক্তি তার জীহ্বার দায়িত্ব নিবে অর্থাৎ তার লাগাম শক্ত করে ধরে রাখতে পারবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তির দায়িত্ব নিবেন।
ভাবা যায়? শুধুমাত্র জিহ্বার নিয়ন্ত্রণ দ্বারা আমরা কত বড় নিয়ামত পেতে পারি?
রাসুল (সাঃ) আমাদেরকে কত বড় বড় আজব থেকে বাঁচানোর জন্য বলেছেন, ”উত্তম বলো না হয় চুপ থাকো”। এই কথার উপর আমরা আমল করতে পারি না। জিহ্বাটা চালু হওয়ার পর খুব অল্প সময়েই প্রয়োজনীয় ও ভালো কথা বলি। এরপরই শুরু হয় মিথ্যা, গীবত, নামীমা, ইত্যাদি।
আমরা আসলে কথাবার্তা বলার সময় জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অনেকগুলো নেয়ামত থেকে বঞ্চিত করে ফেলি নিজেকে। আর ভয়ানক সব আজাবের দিকে নিজেদেরকে ঠেলে দিচ্ছি।
যে ব্যক্তির কাছে জবাব থাকার পরেও তর্ক পরিহার করে, অর্থাৎ একটা বাকবিতণ্ডার পরিবেশ আরো উত্তপ্ত না করে সবর করে চুপ করে রইল তার জন্য জান্নাতের পার্শ্বদেশ একটি ঘর হবে!
এই একটা ফযিলত জানার পর আলহামদুলিল্লাহ্। শুধুমাত্র, জুলুম, মিথ্যা অপবাদ, গীবতের জবাবে যদি আমরা চুপ থাকতে পারি, একটু দম আটকে সবর করতে পারি তাহলে তার বিনিময়ে জান্নাতে একটা প্রাসাদ পায়ে যাব! সুবহানাল্লাহ।
আর সামনের জন কী পাবে? জানেন কি পাবে?
মিথ্যা কথায় মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য পাবে। ঈমান থেকে দূরে সরে পাবে, আল্লাহর লানত পাবে, হেদায়েত থেকে বিচ্যুত হবে, গীবতে মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে, নামিমায় কবরে যন্ত্রণাদায়ক আজাব পাবে, বান্দার হক নষ্ট করাতে পাবে আখিরাতে জান্নাতে যাওয়ার পথে বাধা! এর থেকে ভয়াবহ হালত আর কি হতে পারে আমাদের জন্য?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’কারো কাছে কোনো কথা শোনা মাত্রই তা বলে বেড়ানো মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট’ (মুসলিম ৯৯৬)।
আমরা মিথ্যাবাদীর কাছে মিথ্যাটা শুনি, এরপর নিজের পরিণতির কথা না ভেবে তা অন্যকে বলা শুরু করি।
কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা মিথ্যাবাদীর শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন. “তাদের অন্তরসমূহের রয়েছে ব্যাধি অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন আর তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যাবাদী “ (সূরা বাকারা, আয়াত ১০)।
এই ব্যাধি বলতে কুফুরি ও নিফাক বোঝানো হয়েছে। নিফাক ও কুফুরি অবস্থায় মানুষ স্বাভাবিক অবস্থান বাইরে চলে যায় এবং তারা হেদায়েতের পথ থেকে দূরে সরে যায়। যার শেষ পরিণাম ধ্বংস ও মৃত্যু।
এই কুফুরি ও নিফাকি অবস্থায় মানুষ কিভাবে পৌঁছে জানেন?
এই আয়াতের ব্যাখ্যাতেই ইবনে কাসিরে আছে যে, মিথ্যা বলার বদ অভ্যাসই তাদেরকে কুফুরি ও নিফাক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এজন্যই অন্যায় এর পর্যায়ে যদিও কুফুরি ও নিফাকই সর্বাপেক্ষা বড়, কিন্তু এসবের ভিত্তি ও বুনিয়াদ হচ্ছে মিথ্যা।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, মিথ্যা ঈমান দূর করে” (মুসনাদে আহমাদ: ১/৫)।
আহ!! আমাদের জীহ্বাটা যদি সামলে রাখা যায়, কতইনা উত্তম হবে আমাদের জীবন!