ভারতের লোকসভা নির্বাচন ২০২৪ মুসলিম উম্মাহর কৌশলগত বিজয়

 কি ব্যাপার টাইটেল দেখে অবাক হইলেন? নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ২৪২ টি আসন পাইছে এবং তাদের NDA জোট সরকার গঠন করবে এইটা আবার কিভাবে মুসলিম উম্মাহর বিজয় হইতে পারে।অথবা ভারতের একটি লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে মুসলিম উম্মাহ জড়িত!

পুরো উত্তর পড়লে বিষয়টা বুঝতে পারবেন!

ধরেন আপনার ঘর ভেঙ্গে ফেলার জন্য একজন ব্যক্তি বুলডোজার নিয়ে আসছে।এখন বুলডোজার থামানোর জন্য আপনি অনেক মানুষ নিয়ে যদি বুলডোজারকে ধাক্কা মেরে গতিপথ পরিবর্তন করতে চান সেইটা ভাল কাজ করবে? নাকি লাফ দিয়ে বুলডোজারে উঠে এর ড্রাইভারকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া অধিক বুদ্ধিমানের কাজ হবে? নিশ্চয়ই ড্রাইভারকে সরানো অধিক বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

দিল্লি সর্বদা ইসলাম প্রচারের প্রাণকেন্দ্র ছিল।আরবদেশ থেকে বিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে দাওয়াতি কর্মকান্ডের জন্য।জাকির নায়েক আমাদের এই গ্র্যান্ড ডিজাইনের অংশ।কিন্তু ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি আসার পর ভারতে রাষ্ট্র সমর্থিত ইসলাম বিরোধিতার প্রসার হচ্ছিল।এখন এর সমাধানে হয়ত ভারতের মুসলমানরা আরেকটি রাষ্ট্র বানাত।এতে কাঠখড় অধিক পোড়াতে হত।এর থেকে সহজ রাস্তা হল নরেন্দ্র মোদি সরকারকে দূর্বল করে দেওয়া।

নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কিভাবে দূর্বল করতে হবে সেই আইডিয়া তৈরি করেন ফরিদ জাকারিয়া

ফরিদ জাকারিয়া হইলেন ভারতীয় মুসলমান যিনি আমেরিকার CNN এর সাংবাদিক ও স্কলার।উনার পিতা মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন।

সেই দূর্বল করার কৌশল হল মোদিকে পরাজিত করতে না পারলেও কোয়ালিশন সরকারে ফেলে দেওয়া।এতে সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।যেমন NRC, CAA ইস্যুতে NDA জোটের বিজেপির অনেক সহযোগী দল সমর্থন করে নি।

আমি বার বার বলি ভারতীয় মুসলমানরা ভারতীয় ব্রাহ্মন্যবাদ ও হিন্দত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পৃথক সিক্রেট সোসাইটি গঠন করেছে।যার সদস্য ভারতীয় মুসলমান ইলিটরা।হামিদ আনসারি, রানা আইয়ুব, জোবায়েররা এর সদস্য।এর সিক্রিট সেলটি মূলত নরেন্দ্র মোদির পতনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তারা প্রথমে আরবদের সহায়তা চেয়েছে ও আরব শেখরা সহায়তা করেছে আর্থিকভাবে।অতঃপর প্রচারমাধ্যমের বিষয়ে মুসলিম ব্রাদারহোড ও তুরস্কের একেপি সহায়তা করেছে।এর ধারাবাহিকতায় তারা কংগ্রেসকে তুরস্কে অফিস খুলতে সহায়তা করে।

কাতার এইখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তাদের Information Wing মানে আল জাজিরা ভারতের কিছু সাংবাদিক যেমন শ্রীনিবাসন জৈনকে রিক্রুট করে।এরা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিজেপির বিরুদ্ধে আরও দুইটি ফ্রন্ট থেকে কাজ করা হয়েছে।প্রথমটি হইল ব্রিটেন থেকে।২০২২ সালে ভারতের বিরোধী দলের নেতারা লন্ডন যায়।

সেইখানে গোপনে ব্রিটিশ ডিপ স্টেটের লোকেদের মানে MI6 এর লোকেদের সঙ্গে তাদের ডিল হয়।এর ধারাবাহিকতায় বিবিসির মোদির উপর ডকুমেন্টারি আসে।

এই মিটিং এর মূল কুশীলব ছিলেন সালমান খুরশিদ।

দ্বিতীয় ফ্রন্ট হইল আমেরিকা।আমেরিকাতে ভারতীয় মুসলমানদের একটি সংগঠন রয়েছে নাম Indian American Muslim Council (IAMC)।তাদের সঙ্গে ভারতের ভেতরের মুসলমান সংগঠনগুলোর লিংক রয়েছে।ভারতে NRC, CAA আইনের পর IAMC বাইডেন প্রশাসনকে কনভিন্স করে মোদি রিজিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।তারা আমেরিকায় প্রচারনা চালায় এতে মার্কিন প্রশাসন কনভিন্স হয়।জর্জ সরসের মত লোকেরা এগিয়ে আসে মোদির বিরুদ্ধে।ভারতে বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিজের নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে এবং প্রকাশ্যে NRC, CAA এর বিরোধিতা করেন।এইজন্য পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোদির বিরুদ্ধে কাজ করে।তারা সোস্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেশন ও নেরেটিভ টুইস্টের মাধ্যমে মোদিকে দূর্বল করে।দেখবেন মোদি নির্বাচনে যথেষ্ট ফেবারেট ছিলেন কিন্তু হঠাৎ নেরেটিভ পরিবর্তন হয়ে যায়।এইটা এমনি এমনি হয় নি।এইটা পশ্চিমা গোয়েন্দাদের সাইকোলজিক্যাল অপারেশনের অংশ।এছাড়া অজিত দোবালের পশ্চিমাদেশে গুপ্তহত্যার অভিযানে নামার বিষয়টি তাদের প্রভাবিত করে।

ধ্রুব রাঠি এমনি এমনি হঠাৎ লাইম লাইটে আসে নাই।তাকে আনা হয়েছে।আপনাকে বুঝতে হবে FB, YouTube, Twice কোন দেশের ও সেইদেশের গোয়েন্দা সংস্থা প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করে।আপনি ১ বছর আগের রাহুল গান্ধীর ফলোয়ার ও বর্তমানের ফলোয়ারের পার্থক্য দেখেন।

যদি নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ২৭২ টি আসত পেত তাহলে যে সিদ্ধান্ত নিত:

  • UUC
  • পপুলেশন কন্ট্রোল আইন
  • একক নির্বাচন ব্যবস্থা
  • ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অগ্নিবীর থেকে থেকে পৃথক হিন্দুত্ববাদী মিলিশিয়া গঠন
  • সংবিধান থেকে ধর্মনিরেপক্ষতা বাদ দেওয়া
  • মুসলমানদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার মত ঘটনা বাড়ত
  • NRC এর নামে মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী বলে হেনস্তা করা হত
  • বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে আসা হত

এতে ভারতীয় মুসলমানরা সমস্যায় পড়ত।

কিন্তু নরেন্দ্র মোদির এই নির্বাচনের ফলাফলের পর এই সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবে না।কারন নরেন্দ্র মোদির বর্তমান আসন প্রায় ২৪২ টির মত।ভারতে সরকার গঠন করতে গেলে ২৭২ টি আসনের দরকার।মানে মোদির বাকি আসনগুলো আসবে নীতিশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নাইডুর দল থেকে।এই দুইজনই লোভী ও পল্টিবাজ অনেকটা আমাদের এরশাদ কাক্কুর মত।যেকোন সময় মোদি সরকার থেকে সমর্থন হঠিয়ে কংগ্রেসের জোটে যোগ দিতে পারে।আবার এরা বিজেপির মত কট্টর হিন্দুত্ববাদী নয়।তাই মতাদর্শের দ্বৈরথ তাদের জোট সরকার চালাতে সমস্যা সৃষ্টি করবে।

অনেকেই ধারনা করছেন NDA সরকার আর ৫ বছর ঠিকবে না এর আগেই ভেঙ্গে যাবে।

আর মোদি অতীতে যে শক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে তা ভবিষ্যতে পারবে না।

তবে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন আমাকে একটু বেশি অবাক করেছে।

কোযরাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে ৫% ও তৃণমূল সাপোর্টার নাই কিন্তু ভোটে তৃণমূল ভূমিধস জয় পায়।🤣🤣

এমনকি সন্দেশখালিতেও তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে।হুমায়ুন কবির যেইভাবে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের হুমকি দামকি দিয়েছিল আমি ভেবেছিলাম হয়ত হিন্দুরা আর তৃণমূলকে ভোট দিবে না।এর মানে তৃণমূল লয়ালিস্ট ও মুসলমানরা নেরেটিভ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পেরেছে।এছাড়া মুসলমানরা একতাবদ্ধ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে এইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।এইটা দেখে গো-মূ-ত্র-খোররা কান্নাকাটি করছে।🤣🤣

অন্যদিকে বিজেপির দিলীপ ঘোষ হেরে গেছেন।বেচারা গরুর দুধ থেকে উৎপাদন করতে পারল না।🤣🤣

এই নির্বাচন ভারতের ইতিহাসে কিংবদন্তী হয়ে থাকবে।অনেকটা সম্রাট পৃত্থিরাজ চৌহান ও মোহাম্মদ গোরির যুদ্ধের মত।মোদি বলেছিলেন আগামী টার্মে নাকি ভারতের ১০০০ বছরের ইতিহাস লিখবেন অথচ তিনি নিজেই ইতিহাস হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

মোদি ও বিজেপি ভবিষ্যতে আরও দূর্বল হবে এন্টি ইনকমভান্সির কারনে।

তাই ভারতের এই নির্বাচনে মোদির ব্যর্থতার কারন যতটা না ভারতের জনগণ তারচেয়ে অধিক ভারতীয় মুসলমানদের সিক্রেট সেল ও পশ্চিমা এস্টাবলিশমেন্ট।পশ্চিমবঙ্গে জুন মালিয়ার মত প্রার্থী কখনো নির্বাচিত হত না নেরেটিভ ম্যানিপুলেশন না করলে।

তাই আমার দৃষ্টিতে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ ও পশ্চিমা এস্টাবলিশমেন্টের এইটা বড় জয়।ভারতের হিন্দুরা আত্ম-কেন্দ্রিক ও স্বার্থ-পর।তাদের ফ্রীতে ১ বস্তা চাল দিলে ধর্ম পরিবর্তন করে ফেলে।এইভাবে অন্ধ্র প্রদেশে মিশনারীরা হিন্দুদের খ্রিস্টান বানাচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের অবস্থা আরও শোচনীয়।আমি শুনেছি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু মহিলারা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে "লাভ জিহাদ" ইস্যুর কারণে।কারন যদি তারা বিজেপিকে ভোট দেয় তাহলে মুসলমানদের 🍌 তে ব্লো-জ-ব দেওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে।আমার ধারনা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এমন পরাজয়ে সেখানকার হিন্দু মহিলারা খুব খুশি।


কারন তারা অধিক স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারবে।

বাংলাদেশীদের যে বিষয় বুঝতে হবে:

বাংলাদেশের কিছু মানুষ হিন্দুত্বকে অতিরঞ্জিত করে তা কি দেখলেন? হিন্দুত্বদের ক্ষমতা কতখানি? হিন্দুত্ব মুসলমানদের জন্য কোন বড় থ্রেট নয়।মুসলমানদের জন্য বড় থ্রেট জায়নিজম।কারন তারা আমেরিকার ক্ষমতায় বসে আছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন