পশ্চিমাদের থেকে আমরা কতটা গরিব

 


"ফ্যাক্ট-১

ফ্রান্স বিশ্বের চার নম্বরে আছে স্বর্ণ মজুদের দিক থেকে। ফ্রান্সের রিজার্ভে আছে ২৪৩৬ টন স্বর্ণ। অথচ ফ্রান্সের কোনো স্বর্ণের খনি নাই!

মালিতে (ফ্রান্সের সাবেক কলোনি) ৮৬০ টি স্বর্ণের খনি আছে যেগুলো বার্ষিক ৫০ টন স্বর্ণ উৎপাদন করে৷ অথচ তাদের রিজার্ভে কোনো স্বর্ণ নাই।

ফ্যাক্ট-২

সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ভারত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে গড়ে উঠেছিল। যার পরিমাণ ছিল ঐসময়ের ৯০ বিলিয়ন ডলার, যা ১৭০০ সালে সমগ্র পৃথিবীর মাথাপিছু আয়ের এক চতুর্থাংশ।

কিন্তু তার ঠিক ৭০ বছর পর মানে ১৭৭০ সালে, ইংরেজরা ক্ষমতা নেয়ার ১০ বছরের মাথায় বাংলা দেখে ইতিহাসের ভায়াবহতম দুর্ভিক্ষ। যাতে ১ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যায়। ইতিহাস যাকে বলে ৭৬ এর মনান্তর। ঠিক কতটা শোষণ করলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশে ১০ বছরের ব্যাবধানে ১ কোটি লোক না খেয়ে মারা যেতে পারে।

ফ্যাক্ট-৩

ষোড়শ শতকের শুরু থেকে আরম্ভ হওয়া দাস ব্যবসা উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ বছর ধরে চলতে থাকে। এই সময়ে আফ্রিকার প্রায় দেড় কোটি থেকে দুই কোটির মত নারী, পুরুষ ও শিশুকে দাস বানিয়ে ধরে আনা হয়েছিল। যাদের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগই মারা পড়েছিল সমুদ্র পথে নিয়ে আসার সময়, তাদের উপর করা অত্যাচারে কিংবা ক্ষুৎপিপাসা ও রোগ শোকে। প্রায় ৮০ লক্ষের মত দাস আনা হয়েছিল শুধু ব্রাজিলেই আর ৪ লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে বাকিদের হাইতি ও ক্যারিবীয় অন্যান্য দ্বীপগুলোতে পাঠানো হয়েছিল।

আজ আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র হলেও আফ্রিকা সবচেয়ে গরিব এলাকা। আমেরিকায় যত কালো মানুষ দেখেন সব এসেছে এই দাস ব্যাবসার মাধ্যমে।"

বুঝতেই পারছেন প্রাচ্যের দেশগুলো গরিব ছিল না। পশ্চিমাদের ব্যাপক লুটপাটের ফলে আমরা গরিব হয়েছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন