বাংলাদেশের পুলিশের কিছু জঘন্য অপকর্ম

 


ঘটনা ১

সালটা ২০১৫ এর শেষের দিকে। আমি তখন ক্লাস ৮ এর ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করেছি।

আমার বাবা ছিলেন একজন সহজ সরল মানুষ। জীবনে কোনোদিন রাজনীতি করেছেন কিনা আমার জানা নেই। বাজারে আমাদের একটা ভি আই পি দোকান ছিল সেখানে বাবা দোকানদারি করত, আর আমিও মাঝে মাঝে দোকানে বসতাম। একদিন দুপুরে বাবা দোকানের জন্য কিছু ফল কিনে আনেন এবং আমাকে বাড়ি থেকে খেয়ে আসতে বলেন। আমি বাড়ি থেকে খেয়ে বাজারে যাবো তারপর বাবা বাড়ি আসবেন।

আমি বাড়ি আসলাম। ১০ মিনিট পর একজন বাজার থেকে আমারে ফোন দিল। তোমার আব্বুকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। আমি কি করব কিছু বুঝতে পারলাম না। কি কারনে ধরে নিয়ে গেছে সেটাও জানিনা। বিকালে থানায় বাবার সাথে দেখা করতে গেলাম কিন্তু পুলিশ দেখা করতে দিবে না। এক পুলিশের হাতে ২০০ টাকা দিলাম তখন দেখা করতে দিল। বাবাকে থানায় দেখে এত খারাপ লাগছিল সেটা কাউকে বোঝাতে পারবো না।

রাতে বাজার থেকে এক আঙ্কেল ফোন দিল। বলে আমাকে একটু বাজারে আসতে হবে। আমি বাজারে গেলাম রাত তখন আনুমানিক ১১ঃ৩০ হবে৷ দেখি একটা পুলিশ দাড়িয়ে আছে আর বাজারের কিছু আঙ্কেল। তারা বলে তোমার আব্বুকে ইনিই ধরে নিয়ে গেছে। আমি পুলিশকে জিজ্ঞাসা করলাম আমার বাবাকে কি জন্য ধরে নিয়ে গেছো। তখন পাশের আঙ্কেল আমায় একপাশে নিয়ে আসে এবং আমাকে বলে যে, এসব কথা জিজ্ঞাসা করছ কেন? এসব কথা জিজ্ঞাসা করতে নেই। তুমি পুলিশকে কিছু টাকা দাও, পুলিশ তোমার বাবার কেসটা নরমল করে দিবে। যাতে তাড়াতাড়ি ছাড়া পায়। আমি ছোট মানুষ, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। আমি বললাম আঙ্কেল কতটাকা দিতে হবে? সে বলে ৫-১০ হাজার যা খুশি দাও নইলে তোমার বাবা কিন্তু তাড়াতাড়ি ছাড়া পাবে না। আমি বললাম টাকা নাই তো। আঙ্কেল বল্ল আমার কাছ থেকে ৫০০০ ধার নাও আর পুলিশের হাতে দিয়ে আসো। আমি টাকা নিয়ে পুলিশের হাতে দিয়ে আসলাম।

বাবা ছাড়া পেয়েছিল ৪০ দিন পর। আর বাবাকে ধরেছিল, বাবা নাকি জমায়েতের মিটিং করছিল। নাশকতা করছিল নাকি আমার বাবা। বিশ্বাস করেন, খোদার কসম করে বলছি আমার বাবা কোনো অপরাধ করে নাই, যার কারনে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে।

ঘটানা ২

আগের ঘটনার ৮-৯ মাস পর ২০১৬ সাল। তখন ক্লাস ৯ এ পড়ি। রাতে বাসায় সবাই ঘুমিয়ে আছি। তখন দেখি গেট খুলে বাড়ির সামনে ৪-৫ টা পুলিশ দাড়িয়ে আছে। আমরা বাইরে গেলাম। পুলিশ আমার হাতে এবং বাবার হাতে হাতকড়া পরালো। আম্মু তখন ক্ষেপে গেল। পুলিশকে বললো ওকে হাতকড়া পরাচ্ছেন কেন? ও কি করেছ। তখন পুলিশ আমাকে ছেড়ে দিলো আর বাবাকে নিয়ে গেলো। আমি রাস্তায় যেয়ে পুলিশকে বললাম কি দোষ বাবার, ধরে নিয়ে যাচ্ছেন কেন? তখন পুলিশ বললো, তোদের পরিচিত কোন নেতা বা বড় কেউ থাকলে তাকে ফোন দিয়ে আমার সাথে কথা বলিয়ে দে। আমি বললাম নাই তো। তখন পাশের একজন পুলিশ বললো টাকা আছে? থাকলে কিছু দে আর বাবাকে নিয়ে যা। আমি বললাম টাকা নাই তো। তখন কোনো কথা না বলে পুলিশ গাড়ি নিয়ে বাজারের দিকে গেলো। আমি আর আম্মু তখন বড়ি থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গেলাম। রাত তখন আনুমানিক ১ঃ৩০-২টা। বাজারে যাওয়ার পর দেখি এলাকার এক বড় ভাই বাইকে আসছে। আমাকে দেখে বলে কি হয়েছে? আমি বললাম পুলিশ আব্বুকে ধরে নিয়ে গেছে। ও বললো পুলিশ কোথায়? আমি বললাম মনে হয় বাজারে আছে। বড় ভাই পুলিশের সাথে কথা বললো, পুলিশ ১০ হাজার টাকা চায়। কাছে ছিল ৬ হাজার টাকা। পুশিশের হাতে দিলাম। পুলিশ বললো আরো ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। তখন বললাম আর নাই তো। তখন বললো সকালে ওই বড় ভায়ের কাছে দিলে হবে। আমি বললাম ঠিক আছে সাকালে দেবো। পুলিশ বাবাকে ছেড়ে দিল। সকালে বড় ভায়ের কাছে বাকি ৪০০০ টাকা দিয়ে আসলাম।

সবশেষে একটা কথা বলার ছিল? মানুষ পুলিশের কাছে নিরাপত্তা খোজে, পুলিশকে নিরাপত্তা মনে করে। কিন্তু সেই পুলিশই আমাদের মতো জনসাধারণের লুটে নিচ্ছে। কোনো ব্যাপার না, একদিন সবার বিচার হবেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন