একবার সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন, হুজুর আপনিও কৌতুক করেন? উত্তর দিলেন, অবশ্যই আমিও কৌতুক করে থাকি : তবে আমার কৌতক হয় সম্পর্ণ সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ।
অথচ আমাদের রসিকতায় থাকে মিথ্যা, ধোকা, পরনিন্দা, উপহাস, তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও বিরক্তিকর বিষয়। এখানে রাসূল ﷺ এর রসিকতার কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হল :-
১) এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর খেদমতে একটি সওয়ারীর আবেদন করল। বললেন, আমি তোমাকে সরির পরিবর্তে একটি উটনির বাচ্চা দেব। বেচারা চিন্তিত হয়ে পড়ল - উটনির বাচ্চা দিয়ে কি আর সওয়ারির কাজ হবে সে আবার আরজ করলো, হুজুর, আমি উঠনির বাচ্চা দিয়ে কি করব? এ দিয়ে কি আর সোয়ারির কাজ চলবে। হুজুর ﷺ হেসে ফেললেন এবং বললেন,আরে,দুনিয়ার সব উঠিত কোনো না কোনো উটনির বাচ্চা। হুজুরের রসিকতা বুঝে সেও খুব হাসল।
২) একবার এক বুড়িমা হুজুর ﷺ এর দরবারে এসে অনুরোধ করলো, সে যেন জান্নাতে যেতে পারে।
জবাবে রাসূল রাসূল ﷺ বললেন। না ; বুড়ীরা জান্নাতে যাবে না
এই কথা বলেই নামাজ পড়তে চলে গেলেন। এদিকে সে বুড়ি তো কেঁদে কেঁদে অস্থির। রাসূল ﷺ নামাজ পড়ে এলে, হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জানালেন,হুজুর আপনার মুখে থেকে এই কথা শুনার পর বুড়ি কেঁদে অস্থির। রাসূল ﷺ বলেন তাকে বলে দাও বুড়িমা জান্নাতে যাবে। তবে বুড়ি হয়ে নয়, একেবারে যুবতী হয়ে।
৩) রাসূল ﷺ এক গ্রাম্য বন্ধু ছিল। সে প্রায়ই রাসুল ﷺ এর জন্য গ্রাম থেকে হাদিয়া নিয়ে আসত। একদিন এই গ্রাম্য বন্ধু" জাহের" মদিনার বাজারে এল। তাকে দেখে রাসূল ﷺ চুপিচুপি তার পেছন দিক দিয়ে গিয়ে চেপে ধরেন। একেবারে কোলে তুলে নিলেন। আর জোরে ঘোষণা দিতে লাগলেন কে এই ক্রীতদাস খরিদ করবে? চিনতে না পেরে জাহের বলতে লাগলো কে? ছাড়? ছাড়?
রাসুল ﷺ ছেড়ে দিলেন তাঁকে দেখে খুবই খুশি হলেন। নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করলেন।বললেন, আমার মত হতভাগাকে কিনে কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
ধারাবাহিক ভাবে চলবে.......
والله اعلم بالصواب